আমাদের বিষয়ে

আমরা সাতজন ফাউন্ডিং মেম্বার নানারূপ কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে একত্রিত হয়েছি এবং গড়ে তুলেছি এই বাংলাঘর ফাউন্ডেশন।

“বাংলা ঘর” নাম হলো কেন?

আমাদের দেশে অনেক এলাকায় গ্রাম অঞ্চলে ‘বাংলা ঘর’ বলতে বোঝায় সেই ঘরটি, যেখানে অতিথী আপ্যায়ন করা হয়, অথবা, বাইরের মানুষদের সাথে নানা রকমের কাজ কর্মের আলাপ হয়। আমাদের এই ফাউন্ডেশনটিও যেন ঠিক তেমনই। এখানে আমরা সমাজের সুবিধাবঞ্ছিত মানুষদের সাথে মিশি এবং কথা শুনি। তাদের সমস্যার কথা অনুধাবন করার চেষ্টা করি, এবং ঠিক যে ধরণের সহায়তা তাদের প্রয়োজন, আমরা সেটা দেবার চেষ্টা করে থাকি।

বাংলা ঘর যেন সুবিধা বঞ্ছিত মানুষদের আপ্যায়িত হবার স্থান। তাঁরা আমাদের মেহমানও বটে।

লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য:

বাংলাঘর ফাউন্ডেশনে আমাদের লক্ষ্য হলো সমাজের সুবিধাবঞ্ছিত নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য সাহায্যের নানা উপকরণ নিয়ে এগিয়ে আসা যেন তারা আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং বা উপকরণগুলি ব্যবহার করতে পারে এবং নিজেদের উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরুপ, একজন সুবিধাবঞ্ছিত শিশু তার নিজের বাসায় কম্পিউটার ব্যবহার করার সুযোগ পায় না, কারণ, কম্পিউটার কেনার মতো সামর্থ তার পরিবারের নেই। আমরা চেষ্টা করি আমাদের নির্ধারিত স্থানে এসে শিশুটি যেন কম্পিউটার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারে, এবং নিজের ইচ্ছামতো কিছু সময় নিয়মিত ভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে।

আমাদের দেশের অবস্থাপন্ন জনগোষ্ঠীর অনেক শিশু কোচিঙে যাবার সুযোগ পায়, অথবা তাদের বাসায় গৃহ শিক্ষক থাকে। কিন্তু একজন স্কুল-পড়ুয়া সুবিধা-বঞ্ছিত শিশু এই সুবিধাগুলি পায় না। আমরা চেষ্টা করি আমাদের সেন্টারে তাদেরকে যতদূর সম্ভব এই রকমের কোচিং এর ব্যবস্থা করা, তাদের পড়াশোনায় সাহায্য করা।

জীবন-মান উন্নয়নের ক্রমাগত চেষ্টায় তারা যেন সমাজের আর দশটা মানুষের তুলনায় পিছিয়ে না পড়ে, উপকরণের অভাবে , সুবিধার অভাবে, অর্থের অভাবে – সেই বিষয়টি আমরা দেখার চেষ্টা করে থাকি।

অনেক সময় দেখা যায় মানুষ হিসাবে অতি প্রাথমিক অধিকারগুলি-ই তাদের মেটে না। যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা। এসকল ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই প্রাথমিক চাহিদা গুলি আগে মেটানোর চেষ্টা করি। আমাদের প্রায় সকল প্রোগ্রামেই অংশগ্রহণকারী সুবিধাবঞ্ছিত নারী , পুরুষ, বিশেষ করে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা রাখা হয় নিয়মিত। সকল ক্ষেত্রেই আমরা পরিচ্ছন্নতা, নৈতিকতা, সামাজিক সহমর্মীতা – এসবের বিষয়ে তাদের সাথে আলাপ করি, যেন তারা এর গুরুত্ব সম্পর্কে সর্বদা সচেতন হয়।

আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মেম্বারেরা:

আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মেম্বারদের মধ্যে কারও কারও ইতিমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত সাহায্য-সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, আবার আমাদের মধ্যে কেউ বা এই বাংলাঘর ফাউন্ডেশনের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে সরকারী নানা ফিল্ডে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিও আমাদের প্রতিষ্ঠাতা মেম্বারদের মধ্যে আছেন। আর শেষপর্যন্ত আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য: দুস্থ, সুবিধাবঞ্ছিত মানুষদের জন্য সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসা। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করা এবং তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটিয়ে তাদেরকে শেষপর্যন্ত সমাজের উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীতে পরিণত করা। আমরা নিম্নলিখিতি সাত জন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে শুরু থেকে যুক্ত আছি এবং আমরাই বাংলা ঘরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

ইভালিনা মুন্সী, চেয়ারম্যান

নিয়মিতভাবে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত নারী ও পথ-শিশুদের সাথে সময় কাটান। অন্ন, বস্ত্র ও অন্য নানারকম সহযোগীতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। শিশুদের পরিচ্ছন্নতা, খেলাধুলা, শিক্ষা ইত্যাদির দিকে মনোযোগী এবং সহজেই তাদের সাথে মিশে যেতে পারেন। সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সাথে নিয়মিত আলাপ আলোচনায় মিলিত হন। তাদের সুখ দুঃখের কথা এবং নানারকমের চাহিদা বা উপদেশ সহভাগীতা করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশুনা শেষ করে সামাজিক কর্মকান্ডে মনোনিবেশ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে একজন গায়িকা বা কণ্ঠশিল্পী। বর্তমানে উনার প্রায় সময় কাটে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেদের সাহচর্যে।

দিনমণি মুন্সী, যুগ্ম সম্পাদক
সমাজসেবামূলক বহু কর্মকান্ডে সঙ্গে নিজেকে নিয়মিত সম্পৃক্ত রেখেছেন এবং অনুকরনীয় দুষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি মাগুরা বি বি এফ চার্চের সাথে জড়িত এবং চার্চের নানা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন করে থাকেন। বি বি এফের (বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট ফেলোশিপ) দ্বারা পরিচালিত সমাজ-সেবামূলক মহিলা হোস্টেলে তদারকী কাজের সাথে যুক্ত আছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে সমাজে সচেতনামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি একজন অগ্রগামী কর্মী। নারীদের অধিকার এবং শিশুদের মাঝে প্রকৃত শিক্ষা এবং মানসিক বিকাশ সম্পর্কীত বিষয়াশয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে থাকেন। দেশের অসহায়, নিরীহ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারনের বিবিধ সমস্যা নিয়ে তিনি নানাধরনের পদক্ষেপ ইতিপূর্বে নিয়েছেন।

এ্যানি মুন্সী, নির্বাহী সদস্য
তিনি স্বনামধন্য একটি সরকারী হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্স। চিকিৎসা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জনসাধারণকে তথ্য ও সেবা দিয়ে থাকেন। প্রসূতি সেবায় উনার বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বহু মানুষকে সহায়তা করেছে। তিনি দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাঁদের সহায়তার জন্য সদা প্রস্তুত। পেশাজীবনে আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন এবং গরীব-দুঃখি মানুষের সাহাজ্যার্থে নিজকে উৎসর্গ করেছেন। যেকোনো মানুষের যেকোনো বিপদে, অসুস্থতায় সর্বদা সহযোগীতার হাত নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। অসুস্থ্ রোগীকে প্রকৃত সেবা প্রদান করে এবং যথাযথ চিকিৎসক ও হাসপাতালের বিষয়ে রোগীদেরকে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে থাকেন।

হ্যাপি সিনহা, নির্বাহী সদস্য
একটি সেবামূলক খ্রিষ্টীয় সংগঠনে কর্মরত আছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রজেক্টে উনার সক্রিয় অংশগ্রহণ সেসব কর্মকাণ্ডকে সফল করে তুলতে সর্বদা সহায়তা করে থাকে। বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত নর, নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন সম্পর্কিত নানা প্রকল্পে উনি কাজ করে এসেছেন। সুপ্রতিষ্ঠিত একটি সহায়তা-মূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যস্ত, কর্মমূখর পরিবেশে দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতা উনাকে করে তুলেছে অভিজ্ঞ এবং বাংলা ঘরের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দক্ষ একজন ব্যক্তি। তিনি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে একজন সক্রিয় নারী কর্মী।

আইরিশ ওয়াদুদ, নির্বাহী সদস্য
বাংলা ঘর ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই তিনি সয়াজ সেবার কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। প্রতিবন্ধী শিশু ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্ব-ইচ্ছায় কাজ করে এসেছেন। নারীদের অধিকার রক্ষায় নিয়মিতভাবে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী, সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সেবিকা। দুস্থ নারীদের সংগঠিত করে হস্তশিল্প নির্ভর পণ্য উৎপাদন ও বিপনন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে এসেছেন।

স্যামুয়েল ইসাহাক মুন্সী, কোষাধ্যক্ষ এবং নির্বাহী সদস্য
একটি সেবামূলক, নেতৃস্থানীয় খ্রিষ্টীয় সংস্থায় একজন সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যান্য সেবাধর্মী সংগঠনে নিয়মিত অর্থায়ন এবং তাদরকীর অভিজ্ঞতা উনাকে গড়ে তুলেছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় দক্ষ একজন ব্যক্তি হিসাবে। উনার কর্মক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুনিপুন হিসাবসংরক্ষণের কাজই না, বরং প্রতিষ্ঠানের নানারূপ সেবাধর্মী কর্মকাণ্ডে সর্বদা সাহায্য ও সহযোগীতার হাত নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। বন্যার্ত ও শীতার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, কোভিড-১৯ কালে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ – এরূপ নানা কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভাবে যোগদান করে এসেছেন।

রাদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক
সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহায়তায় ব্যক্তিগত, কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সাহায্য করে আসছেন। দেশের নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকেছেন। খাদ্য, ঔষধ, গৃহনির্মাণ উপকরণ ইত্যাদি ক্রয়ে সহযোগীতা করে এসেছেন। সুপ্রতিষ্ঠিত অন্যান্য দাতা সংস্থার মাধ্যমে দান অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে ডিজাইন এ্যালায়েন্স লিমিটেড – নামক একটি রপ্তানিমুখী প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেকটর হিসাবে কর্মরত। ‘তুলট ডেটা সার্ভিসেস এন্ড পাবলিকেশনস’-এর প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক। শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর লাভ করেন যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া থেকে। দেশের উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামীয় অঞ্চলে গ্রামীয় মানুষদের সহযোগীতা ও অংশগ্রহণে একটি দুগ্ধখামার ও বাউকুল (বড়ই) উৎপাদনের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন বেশ কিছু বছর।

অবস্থাপ্রেক্ষিতে, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা কর্মী নিয়োগ দিয়েছি এবং সকলে মিলে মানবসেবামূলক এই সংগঠন, কাজকর্ম এগিয়ে নিয়ে চলেছি।

আইনগত ভিত্তি:

বাংলাঘর ফাউন্ডেশন “সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০” আইন মোতাবেক বাংলাদেশ RJSC (Office of the Registrar of Joint Stock Companies and Firms, কাওরানবাজার, ঢাকা) কর্তৃক অনুমোদিত এবং নিবন্ধনকৃত একটি প্রতিষ্ঠান। আমাদের নিবন্ধন নম্বর: S-13779/2022.

প্রতিবছর আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্যাদি, আয় ব্যায়ের অডিট রিপোর্ট যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয় এবং রেজিস্ট্রেশন হালনাগাদ করা হয়। ফলে আমাদের হিসাব স্বচ্ছ থাকে এবং নিরাপদে যে কেউ আমাদের এই সংগঠনে দান করতে পারেন নিশ্চিন্তে। আমরা আপনাকে স্বাগত জানাই আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে অথবা আমাদের অফিসে ভিজিট করে যেতে।

আমাদের সাথে আলোচনা করে, অনুদান দিয়ে, আপনিও এগিয়ে যান মানব সেবার এই নির্মল সুন্দর মানবিক ধারায়! ধন্যবাদ।

কিভাবে অনুদান দিবেন? এটি জানতে ক্লিক করুন এখানে!